মানারাহ ডেস্ক: আসন্ন ২০২৭ সালের পবিত্র হজের সুচারু প্রস্তুতি এবং ২০২৬ সালে সফলভাবে হজ সম্পন্নকারী হাজিদের হজ-পরবর্তী করণীয় ও আত্মশুদ্ধি ধরে রাখার লক্ষ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ কর্মশালা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বাইতুল্লাহ’র মেহমান’ শীর্ষক এ বিশেষ কর্মশালাটি শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের জোনাকি কনভেনশন হলে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা হজ কাফেলা (হজ লাইসেন্স নং-৭০৮), ব্রিটনিয়া এভিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, ইসলামিক স্কলার এবং প্রায় চার শতাধিক সম্মানিত হাজি ও হজযাত্রী অংশগ্রহণ করেন।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক হজ প্রশিক্ষণ
কর্মশালায় ২০২৭ সালের পবিত্র হজকে সামনে রেখে সম্মানিত হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি, ফ্লাইট শিডিউল, মক্কা-মদিনায় আবাসন সুবিধা, জিয়ারত এবং হজের যাবতীয় হুকুম-আহকাম কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ নির্দেশনায় পালনের বিষয়ে বিস্তারিত মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এছাড়া পথিমধ্যে সম্ভাব্য প্রতিকূলতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়েও বিশেষ গাইডলাইন দেওয়া হয়।

শরীয়াহ কনসালট্যান্ট হিসেবে মাওলানা মুহাম্মাদ সা’দ হাফি.-এর দিকনির্দেশনা
অনুষ্ঠানে শরীয়াহ কনসালট্যান্ট হিসেবে অত্যন্ত তথ্যবহুল, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট মুফতি, মুহাদ্দিস এবং মানারাহ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মাওলানা মুহাম্মাদ সা’দ (হাফি.)।
“হজ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর বা ইবাদত নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য আত্মিক বিপ্লব। হজ পালন যেমন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরয়ী বিধান মেনে সম্পন্ন করা আবশ্যক, তেমনি হজের পর সেই পুতপবিত্র আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও খোদাভীতি সারাজীবন ব্যক্তি ও পারিবারিক আমলের মধ্যে ধরে রাখাই হলো হজে মাবরুরের প্রধান লক্ষণ।”
— মাওলানা মুহাম্মাদ সা’দ (হাফি.), প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মানারাহ একাডেমি
মাওলানা মুহাম্মাদ সা’দ আরও বলেন, হজ সম্পন্ন করার পর সমাজে ফিরে এসে মিথ্যা, প্রতারণা, সুদ ও অন্যায় থেকে দূরে থেকে হালাল রুজি এবং মানবিক কল্যাণকর্মে নিয়োজিত থাকার মাধ্যমেই একজন হাজি সমাজের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠেন।

দেশবরেণ্য আলেম ও অতিথিদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য আলেম মাওলানা মামুনুল হক এবং সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা হজ কাফেলার সম্মানিত চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা ইব্রাহিম খলিল।
বক্তারা বলেন, বায়তুল্লাহর সম্মানিত মেহমানদের খেদমত করতে পারা একটি মহান সুযোগ। ঢাকা হজ কাফেলা শুরু থেকেই অত্যন্ত বিশ্বস্ততা, সততা ও শরিয়াহর বিধিবিধানের শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করে হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ মানের সেবা দিয়ে আসছে।

হাজিদের অভিজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ২০২৬ সালে হজ পালনকারী হাজিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ঢাকা হজ কাফেলার আন্তরিক আতিথেয়তা, সুদক্ষ মুয়াল্লিম টিম এবং সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার কারণে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নির্ভুলভাবে তাঁরা হজ আদায় করতে পেরেছেন।

আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, বিশ্বশান্তি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ এ কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।











