৩৪% ছাড় চলছে
বিশেষ বই অফার

সন্তান প্রতিপালনের নীতিমালা

অর্ডার করুন →
বাড়ি জীবনযাপন সূরা আর-রহমান তিলাওয়াত ও ক্যানসার জয়: চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতা জানালেন অভিনেতা নওমান ইজাজ

সূরা আর-রহমান তিলাওয়াত ও ক্যানসার জয়: চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতা জানালেন অভিনেতা নওমান ইজাজ

0
9

মানারাহ ডেস্ক: ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে পবিত্র কুরআনের ‘সূরা আর-রহমান’-এর তিলাওয়াত কীভাবে মানসিক ও আত্মিক শক্তি জুগিয়েছে, তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নওমান ইজাজ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং দেশের অন্যতম সংবাদমাধ্যম এটিএন নিউজেও এ বিষয়ে একটি বিশেষ ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

কী ঘটেছিল নওমান ইজাজের সঙ্গে?

অভিনেতা নওমান ইজাজ জানান, ২০২৪ সালের জুন মাসে তাঁর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা তাঁর কানের কাছে একটি টিউমার এবং পেটে লিম্ফোমা ক্যানসার শনাক্ত করেন। এমন জটিল রোগ ধরা পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তিনি ও তাঁর পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী কেমোথেরাপি এবং হাসপাতালে থাকার বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ শঙ্কিত ছিলেন।

সেই কঠিন সময়ে তাঁর এক শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু তাঁকে নিয়মিত পরম ভক্তি ও মনোযোগের সাথে সূরা আর-রহমান তিলাওয়াত করার এবং শোনার পরামর্শ দেন। বন্ধুর পরামর্শে নওমান ইজাজ কোনো প্রকার দ্বিধা না করে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল (ভরসা) রেখে প্রতিদিন নিয়ম করে সূরা আর-রহমান তিলাওয়াত শুরু করেন।

পাকিস্তানি অভিনেতা নওমান ইজাজ
এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ক্যানসার জয় ও আত্মিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন অভিনেতা নওমান ইজাজ — ছবি: সংগৃহীত

অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসকদের বিস্ময়

নওমান ইজাজের বক্তব্য অনুযায়ী, চিকিৎসকরা প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি টিউমার অপসারণ করেন এবং পরবর্তী ধাপ হিসেবে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কেমোথেরাপি শুরুর দিন ধার্য করেন। কিন্তু কেমোথেরাপি শুরুর ঠিক আগের দিন যখন চিকিৎসকরা চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন, তখন তারা দ্বিতীয় কোনো টিউমার বা কেমোথেরাপি দেওয়ার মতো ক্যানসার কোষের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি।

চিকিৎসকদের এই রিপোর্ট দেখে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বিষয়টিকে মহান আল্লাহর অশেষ রহমত এবং সূরা আর-রহমানের বরকতের এক অলৌকিক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

কুরআন কি রোগের শেফা? ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি

পবিত্র কুরআনুল কারিমকে মহান আল্লাহ মুমিনদের জন্য আত্মিক ও শারীরিক উভয় ব্যাধির আরোগ্য (শেফা) হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

“আর আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি, যা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত।”

— (সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৮২)

সূরা আর-রহমানকে বলা হয় ‘আরূসুল কুরআন’ বা কুরআনের বধূ/সৌন্দর্য। এই সূরায় বারবার মহান আল্লাহর অজস্র নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। গভীর মনোযোগের সাথে এটি পাঠ করলে মানুষের অন্তরে পরম প্রশান্তি নেমে আসে, যা একজন মুমূর্ষু রোগীকে অসীম মানসিক সাহস ও ইতিবাচক শক্তি জোগায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ নির্দেশনা

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, যেকোনো কঠিন রোগে আত্মবিশ্বাস, মানসিক শক্তি এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, কুরআন তিলাওয়াত শুনলে রোগীর উদ্বেগ (Anxiety) ও রক্তচাপ হ্রাস পায়।

তবে ইসলামি স্কলার এবং চিকিৎসকরা এই বিষয়ে একটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন—কুরআন তিলাওয়াত বা দোয়া কখনোই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং সহায়ক।

রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন:

“হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কেননা মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক তিনি নির্ধারণ করে দেননি।”

— (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৫৫)

অতএব, ক্যানসারের মতো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপিসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে দোয়া, ইসতিগফার ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আত্মিক শক্তি অর্জন করতে হবে।

নওমান ইজাজের এই অভিজ্ঞতা বহু মানুষকে কঠিন বিপদে আল্লাহর কালামের প্রতি মনোযোগী হতে এবং চরম সংকটেও আশাবাদী থাকতে নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে